ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব এইডস দিবস ২০২৫–এর প্রাক্কালে দেশে এইচআইভি পরিস্থিতি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি শনাক্তের ৩৫ বছর পর এবার এক বছরে রেকর্ডসংখ্যক রোগী চিহ্নিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক বছরে আনুমানিক ২ হাজার জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ বেশি। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শনাক্ত রোগীদের প্রায় অর্ধেকই পুরুষ সমকামী হিসেবে চিহ্নিত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সর্বাধিক এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকায়। শুধু রাজধানী জেলাতেই নতুন ৩৩৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরপর কুমিল্লায় ১০৮, চট্টগ্রাম ও খুলনায় প্রায় ১০০ জন করে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিভাগীয় হিসেবে রাজশাহী বিভাগে শনাক্তের হার সবচেয়ে বেশি, যেখানে সিরাজগঞ্জ শীর্ষে রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এ জেলায় শনাক্ত হয়েছে ২৫৫ জন রোগী। তাদের মধ্যে ২৬ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। বরিশালেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক শেবাচিম হাসপাতালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত এক বছরে ২০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১১ জনই শিক্ষার্থী।
চিকিৎসকেরা বলছেন একই সিরিঞ্জ ব্যবহার, রোগ গোপন করা, সচেতনতা কম থাকা এবং অনিরাপদ যৌন আচরণ বাড়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে মোট শনাক্ত রোগীদের প্রায় ৫০ শতাংশই সমকামী পুরুষ। সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে টেস্ট বৃদ্ধির ফলে শনাক্ত সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের ম্যানেজার মো. আলাউদ্দীন চৌধুরী। তিনি বলেন, “টেস্ট ও স্ক্রিনিং বাড়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেশি ধরা পড়ছে, যার মধ্যে সমকামী পুরুষ শনাক্ত হচ্ছে উল্লেখযোগ্যহারে।”
রাষ্ট্রীয় তথ্য বলছে, ২০১৫ সালে দেশে পুরুষ সমকামীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১১ হাজার; ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজারে।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তথ্য অনুসারে, সম্প্রতি শনাক্ত রোগীদের উল্লেখযোগ্য অংশ ২০–৩০ বছর বয়সী তরুণ। শুধু ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত এ হাসপাতালে পরীক্ষা করানো ২ হাজার ১৯২ জনের মধ্যে ২৭৩ জনের দেহে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে—যার মধ্যে ৭৮ জন পুরুষ সমকামী এবং ৩৯ জন পুরুষ যৌনকর্মী।
নতুন শনাক্ত রোগীদের ১০৭ জন অনিরাপদ বিপরীত লিঙ্গের যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে, এবং ৪২ জন বিদেশফেরত শ্রমিক হিসেবে সংক্রমিত হয়েছেন। একই সময়ে এ হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৫ জন রোগী।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীরা নিয়মিত বিনামূল্যে ওষুধ পেলেও জটিল রোগীদের পরীক্ষায় এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে। এমআরআই, বায়োপসি, ডায়ালাইসিস, সিডি–৪ কাউন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সুবিধা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নেই। ফলে রোগীদের এসব পরীক্ষা বাইরের প্রতিষ্ঠানে করাতে হয়।
এ ছাড়া ফাঙ্গাল ও প্যারাসাইটিক সংক্রমণ শনাক্তের উন্নত সুবিধা, লাইফ সাপোর্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহেও ঘাটতি রয়েছে।
এখন পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৬৩ জন। মারা গেছেন ২ হাজার ২৮১ জন। চিকিৎসাধীন আছেন ৮ হাজার ৩০৯ জন।
জাতিসংঘের বেঁধে দেওয়া এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৯৫-৯৫-৯৫ লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। কিন্তু বর্তমান পরিসংখ্যানে মনে হচ্ছে—এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে এখনো অনেক দূর পথ বাকি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, টেস্ট বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ কমানো এবং চিকিৎসায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: searchbdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: ads@searchbdnews.com
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News