ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকট। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরের ফিলিং স্টেশন ও খুচরা দোকানগুলোতে ঝুলছে ‘এলপি গ্যাস নেই’ লেখা নোটিশ। চাহিদার অর্ধেকও গ্যাস না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে পরিবহন খাতের চালকরা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বহু এলপিজি বিক্রেতার দোকান বন্ধ, আবার কোথাও সিলিন্ডার থাকলেও তা খালি। গ্যাসের তীব্র সংকটের মধ্যেই বাজারে চলছে লাগামহীন মূল্য নৈরাজ্য। সরকারি নির্ধারিত দামে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৩০০ টাকা হলেও অনেক জায়গায় তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ টাকায়। তাও সব দোকানে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
ভোক্তাদের অভিযোগ, এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও গ্যাস মিলছে না। কেউ কেউ ফোন করেও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। কোথাও আবার বেশি দাম না দিলে গ্যাস দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ বাজার মনিটরিং বা বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, তাদের কাছে সিলিন্ডার থাকলেও বেশিরভাগ বোতলই খালি। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বাধ্য হয়েই দোকানে ‘গ্যাস নেই’ বোর্ড ঝুলাতে হচ্ছে।
এই সংকটের প্রভাব শুধু ঘরোয়া রান্নাবান্নায় সীমাবদ্ধ নেই। এলপিজি ও অটোগ্যাসনির্ভর পরিবহন খাতেও দেখা দিয়েছে মারাত্মক অচলাবস্থা। কোথাও অটোগ্যাস স্টেশন বন্ধ, কোথাও আবার গ্যাস নিতে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছেন না বলে জানান।
অটোগ্যাস ব্যবহারকারীরা বলেন, দাম বাড়ার পর থেকেই এই সংকট প্রকট হয়েছে। কোনো স্টেশনে গেলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে, আবার অনেক স্টেশন সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছে গ্যাস নেই, স্টেশন বন্ধ।
ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, দেশে মাসিক এলপিজির চাহিদা এক লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ মেট্রিক টন। অথচ বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ। দেশে থাকা সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডারের বিপরীতে মাসে রিফিল হচ্ছে মাত্র সোয়া কোটি। যানবাহন খাতে যেখানে মাসিক চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন।
খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে জাহাজ সংকট, ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতায় একাধিক কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ এবং আমদানি বাড়াতে আবেদন করেও সময়মতো জ্বালানি বিভাগের অনুমতি না পাওয়ায় তৈরি হয়েছে এই নজিরবিহীন সংকট।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, দেশে মোট ২৮টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এলপিজি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত আমদানি করতে পারতো মাত্র সাত থেকে আটটি কোম্পানি। বাকি ২০টির বেশি কোম্পানি বিভিন্ন জটিলতায় আমদানি করতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক সহযোগিতা করলে সব কোম্পানি আমদানি সক্ষম হবে এবং তখন বাজারে এলপিজির উদ্বৃত্ত তৈরি হতে পারে।
তবে এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। তাদের আশা, এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর হলে আগামী সপ্তাহ থেকেই ধীরে ধীরে এলপিজি পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: searchbdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: ads@searchbdnews.com
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News