ছবি সংগ্রহীত
বেগম খালেদা জিয়া আজ আর নেই। তবে তার রাজনৈতিক জীবন ও চরিত্রের পাঠ আজও বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক। ২০০০ সালে বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমি কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলিনি।” এই একটি বাক্যই যেন তার রাজনৈতিক দর্শনের সংক্ষিপ্ত পরিচয়।
দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেননি। মতবিরোধ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থাকলেও তা কখনো নোংরা বক্তব্যে রূপ নেয়নি। বিপরীতে, প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিগত কুৎসার ভাষা আধিপত্য বিস্তার করেছে। এ প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়ার আচরণ ছিল ব্যতিক্রমী—সচেতনভাবে ভিন্ন এবং নৈতিকভাবে উচ্চতর।
গত দেড় দশকে রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিদ্রূপের ভাষা বিরাজ করলেও তিনি সদা সংযত ছিলেন। দমন-পীড়ন, মামলা ও কারাবন্দীর শিকার হয়েও তার ভাষা কখনো প্রতিহিংসাপূর্ণ হয়নি। তিনি রাজনৈতিক জবাব দিয়েছেন ধৈর্য ও নীরব শক্তিতে। ক্ষমতা থাকাকালীন এবং বিরোধী অবস্থায়ও তার আচরণে ছিল শালীনতা ও দৃঢ়তা।
গৃহবধূ থেকে দেশের শীর্ষ গণতান্ত্রিক নেত্রী হওয়া তার সংগ্রামের প্রতীক। তিনি দেখিয়েছেন, শালীনতা দুর্বলতা নয়, বরং এটি শক্তির প্রকাশ। রাজনীতির উত্তাল মুহূর্তেও নৈতিক সীমারেখা অতিক্রম করা হয়নি, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল ঘটনা।
শেষ বয়সে এসে তিনি শুধু একজন বিরোধী নেত্রী নন, বরং জাতির ঐক্যের প্রতীক। তার মৃত্যু আমাদের সামনে প্রশ্ন রেখে গেছে—আমরা কোন রাজনীতি গ্রহণ করতে চাই: যেখানে ভাষা মানেই আক্রমণ, নাকি যেখানে দৃঢ়তা ও শালীনতা সংযুক্ত থাকবে? খালেদা জিয়া তার জীবদ্দশায় স্পষ্ট উত্তর দিয়ে গেছেন।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: searchbdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: ads@searchbdnews.com
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News