ছবি সংগ্রহীত
মানবাধিকার সহায়তা সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৭ মাসে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগজনক। এই সময় রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সীমান্ত হত্যা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ নানামুখী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি ও প্রাক-নির্বাচনী সহিংসতা’ প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন এইচআরএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১,৪১১টি রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১৯৫ জন নিহত এবং ১১,২১৯ জন আহত হয়েছেন। প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়েছে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, প্রতিশোধ, সমাবেশ কেন্দ্রিক সংঘাত, কমিটি বিরোধ, নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজি। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বিএনপির ওপর—৭০৪টি ঘটনায় ৭,১৩১ জন আহত এবং ১২১ জন নিহত।
সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতিকারীদের হামলায় অন্তত ২৩৬টি ঘটনায় ১৫৬ জন নিহত এবং ২৪৯ জন আহত হয়েছেন। গত ১৭ মাসে ৩০০-এর বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ, শতাধিক রাজনৈতিক কার্যালয়, ১৩০-এর বেশি বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়েছে।
নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত ১৫৫টি সংঘর্ষে ৭ জন নিহত এবং ১,৪০৩ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ঘটনায় গত ১৮ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী সিঙ্গাপুরে মারা যান। এছাড়া ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা নিহত হন।
গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় অন্তত ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত এবং ৩১৩ জন আহত হয়েছেন। এসময় সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক কর্মী ও কিশোরদের ওপর বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা হয়েছে।
সাংবাদিকদের ওপরও হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ১৭ মাসে অন্তত ৪২৭টি হামলায় ৮৩৪ জন সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন নিহত, ৩৭৯ জন আহত, ৯১ জন লাঞ্ছিত, ১০৩ জন হুমকির মুখে এবং ৩৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ দেখা গেছে। সাইবার নিরাপত্তা আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের বিভিন্ন ধারায় ৪১টি মামলায় ৬৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিচার বহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে মৃত্যু, ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন, মাজার ও বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা, সীমান্ত হত্যা এবং নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা—সবই প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৭ মাসে কমপক্ষে ২,৬১৭ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ধর্ষিত ১,০১৬ জন, ৫৫০ জন ১৮ বছরের কম।
এইচআরএসএস বলেছে, “মানবাধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশ নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। যথাযথ অনুসন্ধান এবং আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ ছাড়া নাগরিকদের অধিকার ও গণতন্ত্র বিপন্ন হতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন, অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান, এইচআরএসএস-এর প্রোগ্রাম অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম এবং ডকুমেন্টেশন অফিসার আব্দুল কাদির।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: searchbdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: ads@searchbdnews.com
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News