ছবি: সংগৃহীত
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই দেশটির ওপর আবারও সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ইরানে কঠোর হামলা চালানোর নির্দেশ দিতে পারেন। একই সঙ্গে ইরান সরকার এই মুহূর্তে ‘মহা বিপদের’ মুখে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন,
“ইরান সরকার বড় বিপদে আছে। বিক্ষোভকারীরা এখন অনেক শহরের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে—কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ ভাবেনি এমন কিছু সম্ভব হবে।”
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান সরকার যদি আগের মতো বিক্ষোভকারীদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে।
“এর অর্থ এই নয় যে, আমাদের সেনারা ইরানে যাবে। এর অর্থ হলো—আমরা সেখানে এমন জায়গায় কঠোর হামলা চালাব, যেখানে আঘাত লাগলে তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে,” বলেন তিনি।
পরমাণু ইস্যুতে পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই গত বছরের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানে হামলা চালিয়েছিলেন ট্রাম্প। চলমান বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর গত সপ্তাহেও তিনি ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দেন। বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন,
“বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি না চালানোই ভালো। গুলি চালালে আমরাও গুলি চালাব।”
ইরানে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে। গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে। এতে যোগ দেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।
বিক্ষোভ প্রশমনের লক্ষ্যে সরকার প্রতি পরিবারকে মাসিক প্রায় ৭ ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং সাম্প্রতিক দিনে বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানায়, এখন পর্যন্ত বিক্ষোভে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এ ছাড়া আটক করা হয়েছে এক হাজার ২০০–এর বেশি মানুষকে। অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বিক্ষোভে অন্তত ৩০০ পুলিশ ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদস্য আহত হয়েছেন।
ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স। এক যৌথ বিবৃতিতে তিন দেশের নেতারা বিক্ষোভকারীদের হত্যার নিন্দা জানিয়ে ইরান সরকারকে নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানও পরিস্থিতি নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগ। দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা ঘোষণা দিয়েছে, তথাকথিত শত্রুপক্ষের পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, অস্থিরতা দমনে কর্তৃপক্ষ পিছু হটবে না। তিনি আবারও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে খামেনির ইংরেজি অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রাম্পবিরোধী বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, “ট্রাম্পের হাতে ইরানিদের রক্ত লেগে আছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের কঠোর ভাষা, নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কবার্তা এবং আন্তর্জাতিক চাপ—সব মিলিয়ে ইরানজুড়ে যে কোনো সময় বড় ধরনের দমন অভিযান শুরু হতে পারে, যা দেশটিকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: searchbdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: ads@searchbdnews.com
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News