ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ জনে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে অন্তত ৯টি শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে নরওয়েভিভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন।
রিয়ালের ভয়াবহ দরপতন, নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং অসহনীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে অর্থনৈতিক দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়।
ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন শহর ও প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৩ দিনে সংঘটিত এসব বিক্ষোভে সহিংসতা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ২৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন, ব্যাংক, মেট্রো স্টেশনসহ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি বাস, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত বা বন্ধ রেখেছে। একই সঙ্গে বিবিসিসহ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওপর সংবাদ পরিবেশনে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আন্দোলন দমনে ইরান সরকার কঠোর হলে সামরিক হামলার হুমকিও দিয়েছেন। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করছে।
সব মিলিয়ে ইরানের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।